ঢাকা

No edit

সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকাঃ

No edit

সংবাদ শিরোনাম ::
Header Ads

জামালপুরে গণমাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক ও জেন্ডার-ভিত্তিক রীতিনীতির দায়িত্বশীল উপস্থাপন বিষয়ক ২ দিনব্যাপী কর্মশালা

জামালপুরে গণমাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক ও জেন্ডার-ভিত্তিক রীতিনীতির দায়িত্বশীল উপস্থাপন বিষয়ক ২ দিনব্যাপী কর্মশালা
প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
অ+ অ-
মোঃ ইমরান মাহমুদ:

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং সমাজে ইতিবাচক জেন্ডার-ভিত্তিক রীতিনীতি প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জামালপুরে দুই দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) শহরের উন্নয়ন সংঘ ডিটিআরসি হলরুমে ‘অ্যাক্সিলারেটিং অ্যাকশন টু এন্ড চাইল্ড ম্যারেজ’ প্রকল্পের আওতায়, কিংডম অব নেদারল্যান্ডসের আর্থিক সহযোগিতায়, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ও একশনএইড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি এডুকেশন (বেইস)-এর সহযোগিতায় এই কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।

দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে জামালপুর জেলার সদর ও চারটি উপজেলার স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ৩০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, জামালপুরের উপপরিচালক কামরুন্নাহার বলেন, “জামালপুরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের লেখনী ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নতুন ধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা সম্ভব। কর্মশালাটি আমাদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জামালপুরের কিশোরীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করব।”

তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মশালাটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ে উৎসাহ প্রদান করে তাদের সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আরও বক্তব্য রাখেন একশনএইড বাংলাদেশের উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি বিভাগের প্রোগ্রাম অফিসার শান্তা ইসলাম, ইউএনএফপিএ-এর অ্যাডোলোসেন্ট অ্যান্ড ইয়ুথ বিষয়ক টেকনিক্যাল অফিসার সুরাইয়া সুলতানা, ফিল্ড অফিসার মো. আতাহার আলী এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি এডুকেশন (বেইস)-এর ডেপুটি ডিরেক্টর কামরুল হাসান খন্দোকার। বেইসের ডেপুটি ডিরেক্টর কামরুল হাসান খন্দোকার তাঁর স্বাগত বক্তব্যে এ আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে কর্মশালা থেকে তাঁদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে নিজ নিজ সংগঠনে তাঁদের কাজের ভূমিকা এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আলোচনা করেন।

কর্মশালায় দুটি মূল দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বিশ্লেষণ করা হয়। প্রথমত, বাল্যবিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সামাজিক রীতিনীতি ও এর মূল প্রভাবকসমূহ, জেন্ডার বৈষম্য, বিয়ে নিবন্ধন ও এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের প্রবণতা এবং এ-সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। দ্বিতীয়ত, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের করণীয় এবং একটি সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আয়োজনে ইউএনএফপিএ-এর তিনটি প্রধান রূপান্তরমূলক লক্ষ্য—প্রতিরোধযোগ্য মাতৃমৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনা, পরিবার পরিকল্পনার অপূরণীয় চাহিদা শূন্যে আনা এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও বাল্যবিয়েসহ সব ধরনের ক্ষতিকর প্রথা শূন্যে নামিয়ে আনা—অর্জনে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলোচকেরা উল্লেখ করেন, সংবাদের বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল উপস্থাপনের মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতি দূর করা, গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সচেতনতা বৃদ্ধি, কিশোর-কিশোরীদের জীবনদক্ষতা উন্নয়ন এবং বাল্যবিবাহ ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে নীতিনির্ধারকদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম।

কর্মশালার প্রথম দিনে গণমাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির পাশাপাশি জেন্ডার সমতার অগ্রগতি যথাযথ ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে উপস্থাপনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় নারীর প্রতি সহিংসতা, কিশোরী গর্ভধারণের হার, জেন্ডার বৈষম্য সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণে নেই—এমন তরুণ জনগোষ্ঠীর (NEET) মধ্যে নারী ও পুরুষের তুলনামূলক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বিশ্লেষণ করা হয়।

আগামীকাল কর্মশালার দ্বিতীয় ও শেষ দিনে গণমাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুদের উপস্থাপন কীভাবে ক্ষতিকর জেন্ডার ও সামাজিক রীতিনীতিকে স্থায়ী রূপ দেয়, তা বিশ্লেষণ করা হবে। পাশাপাশি পুরুষ ও ছেলেদের ইতিবাচক উপস্থাপনের ভূমিকা এবং নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য মোকাবিলায় গণমাধ্যম ও বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নিয়ে আলোকপাত করা হবে।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করছেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা জেন্ডার-সংবেদনশীল সংবাদ উপস্থাপনের কৌশলগুলো আয়ত্ত করে ভবিষ্যতে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফলভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন।

সমগ্র কর্মশালাটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ইউএনএফপিএ-এর টেকনিক্যাল অফিসার—অ্যাডোলোসেন্টস অ্যান্ড ইয়ুথ, সিএসও এনগেজমেন্ট অ্যান্ড এমইআরএল সুরাইয়া সুলতানা, ন্যাশনাল কমিউনিকেশন অফিসার আফরা নাওমী এবং ফিল্ড অফিসার মো. আতাহার আলী।

শিরোনাম...

একটি মন্তব্য করুন