ঢাকা

No edit

সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকাঃ

No edit

সংবাদ শিরোনাম ::
Header Ads

অফিসে নিয়মিত আসেন না সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা, স্থবির জামালপুর শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম

অফিসে নিয়মিত আসেন না সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা, স্থবির জামালপুর শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম
প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
অ+ অ-


 স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ ও চর্চার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠানটিতে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠকদের নিয়মিত আনাগোনা নেই। অভিযোগ রয়েছে, জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোস নিয়মিত অফিস করেন না। দিনের বেলায় তাঁকে অফিসে না পাওয়া গেলেও মাঝে মধ্যে রাতে অফিসে এসে মধ্যরাত পর্যন্ত অবস্থান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠকদের অভিযোগ, জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় নেই। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনেও স্থানীয় শিল্পী ও সংগঠনগুলোকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা হয় না। এমনকি শিল্পকলা একাডেমিতে বিভিন্ন প্রয়োজনে গিয়ে কর্মকর্তাকে না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের জন্য সংগীত, নৃত্য, চারুকলা ও তবলা বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি জেলার শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা প্রতিষ্ঠানটির। একসময় শিল্পীদের পদচারণায় মুখর থাকা একাডেমির প্রাঙ্গণ এখন অনেকটা নীরব বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

জামালপুর শহরের সিংহজানী উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের পাশে অবস্থিত জেলা শিল্পকলা একাডেমির নতুন ভবনটি বাইরে থেকে আকর্ষণীয় হলেও দিনের বেলায় সেখানে অনেক সময় নীরব পরিবেশ দেখা যায় বলে অভিযোগ। কয়েকজন কর্মীর দাবি, সকালের দিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখা গেলেও দুপুরের পর অনেক সময় ভবনের বিভিন্ন কক্ষ তালাবদ্ধ থাকে।

অফিসে নিয়মিত আসেন না সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা, স্থবির জামালপুর শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কর্মরত একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘কোনো কোনো সপ্তাহে স্যার একদিনও অফিসে আসেন না। মাসে তিন থেকে চার দিন অফিস করেন। দিনের বেলায় তিনি একেবারেই আসেন না। অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসে ফিরে যান। তবে প্রয়োজন হলে তিনি রাতে অফিসে আসেন এবং অনেক রাত পর্যন্ত অবস্থান করেন।’

তাঁরা আরও বলেন, কেউ কর্মকর্তার বিষয়ে জানতে চাইলে অনেক সময় বলা হয়, তিনি ডিসি অফিসে মিটিংয়ে আছেন, ঢাকায় আছেন অথবা ব্যাংকে গেছেন।

জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) জামালপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন সারগাম বলেন, ‘জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা নিয়মিত অফিসে আসেন না। দিনের বেলায় কোনো কাজে গেলে তাঁকে পাওয়া যায় না। মাঝে মধ্যে রাতে অফিসে আসেন। জেলার শিল্পীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বা সমন্বয় নেই।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে যথাযথভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। অন্য শিল্পীদের পরিবর্তে কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সাংস্কৃতিক কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তার কারণে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে এবং আগের তুলনায় প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যাও কমেছে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী বলেন, ‘জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মিটিংয়ের নাম করে কোথায় থাকেন, তা কেউ জানে না। অনেকটা অন্তরালে থেকেই তিনি শিল্পকলা একাডেমি পরিচালনা করেন। এখানে জেলা প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। জামালপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে উজ্জীবিত রাখতে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোস বলেন, ‘আমি অফিসে না থাকলে শিল্পকলা একাডেমি কীভাবে চলে? আমি অফিসে থাকি, আবার বাইরে চলে আসি, পরে আবার যাই। জামালপুরের সব সংগঠনের সঙ্গেই আমার ভালো সম্পর্ক আছে। আমার বিরুদ্ধে কেউ যদি কোনো অভিযোগ করে থাকে, তবে তাকে সন্ধ্যার পরে আমার অফিসে নিয়ে আসবেন।’

এদিকে, জেলা শিল্পকলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সংগীত, নৃত্য, চারুকলা ও তবলা বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থী ছিল ১৬৩ জন। চলতি বছর তা কমে ১২২ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন আটজন। তাঁদের মধ্যে লাইট অপারেটর, সাউন্ড অপারেটর, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নৈশপ্রহরীসহ পাঁচজন অস্থায়ীভাবে কর্মরত রয়েছেন।

জেলা শিল্পকলা একাডেমির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা।

শিরোনাম...

একটি মন্তব্য করুন