মেলান্দহে দুই শিক্ষকের সনদ নিয়ে প্রশ্ন, একজন সাময়িক অব্যাহতি
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার আদ্রা আব্দুল মান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার আদ্রা আব্দুল মান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের একজনের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় সনদ দেখাতে না পারায় আইসিটি বিভাগের শিক্ষক নাসিমা আক্তারকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন এ তথ্য জানান।
অভিযোগের মুখে থাকা দুই শিক্ষক হলেন বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক শাহ নাজ পারভীন (ইনডেক্স নম্বর: ডি১০৫৪০৮০) ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষক নাসিমা আক্তার (ইনডেক্স নম্বর: ডি১০৫৯০২১)।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ২৬ জুন ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাহ নাজ পারভীন গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ পান। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগের সময় তিনি দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সনদ জমা দিয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালে তিনি বগুড়ার সিট ফাউন্ডেশনের ২০১৩ সালের ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি কোর্সের একটি সনদ জমা দেন। সনদ অনুযায়ী, কোর্সটি ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছর মেয়াদি ছিল। তবে ওই সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে বেতন উত্তোলনের তথ্য থাকায় সনদটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, আইসিটি বিভাগের শিক্ষক নাসিমা আক্তারের প্রয়োজনীয় সনদ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের এক জরুরি সভায় তাঁকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন।
অন্যদিকে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর শাহ নাজ পারভীনের উচ্চতর স্কেল ও টাইম স্কেলের আবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা তাঁর সনদ যাচাই এবং নিয়োগের বৈধতা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক বলেন, দুই শিক্ষকের নিয়োগ ও সনদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে শাহ নাজ পারভীন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর সনদ সঠিক। তিনি সিট ফাউন্ডেশনের একটি নতুন সনদ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগের মুখে থাকা আরেক সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে কোচিং সেন্টারে সময় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে তিনি বলেন, বেকার থাকা অবস্থায় ২০০০ সালে কোচিং সেন্টারটি খুলেছিলেন। চাকরি পাওয়ার পর সেখানে আর যাওয়া হয় না। তিনি আরও দাবি করেন, কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের পদে ছিলেন না।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘নাসিমা আক্তার সনদ দেখাতে না পারায় তাঁকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর শাহ নাজ পারভীনের সনদ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একটি সনদ পেয়েছি, সেটি যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।’
মেলান্দহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, তিনি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন