মাদারগঞ্জে জমি দখল ও ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী
মাদারগঞ্জে জমি দখল ও ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীজামালপুরের মাদারগঞ্জে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে জমি দখল, অতিরিক্ত জমি দাবি, হুমকি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. বাবুল মিয়া। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাবুল মিয়া বলেন, তিনি উপজেলার বড় ভাংবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী আবু সাঈদ মুন্সি, মো. শফিকুল, মো. রফিকুলসহ কয়েকজনের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
বাবুল মিয়ার দাবি, প্রায় ১২ বছর আগে খতিয়ান নম্বর ৩৮-এর দাগ নম্বর ১৮১৮ এবং খতিয়ান নম্বর ৪৭৩-এর দাগ নম্বর ১৮১৯, ১৮২৪ ও ১৮২৫ থেকে প্রতিবেশীদের কাছে মোট ৭ শতাংশ জমি বিক্রি করেন তিনি। জমি কেনার পর তারা সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছেন।
তবে তাঁর অভিযোগ, বিক্রি করা ৭ শতাংশ জমির চেয়ে বেশি জায়গা বর্তমানে তাদের দখলে রয়েছে। সম্প্রতি তারা আরও এক শতাংশ জমি দাবি করলে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জমি সঠিকভাবে পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণের কথা বললে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিরোধ মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে জমির মূল কাগজপত্র উপস্থাপনের কথা বলা হলেও অভিযুক্তরা তা দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেন বাবুল মিয়া। পরে স্থানীয়ভাবে জমি পরিমাপ করা হলে বিক্রি করা জমির চেয়ে অতিরিক্ত জায়গা দখলে থাকার বিষয়টি উঠে আসে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, হিসাব অনুযায়ী অভিযুক্তদের দখলে থাকা জায়গার মধ্যে উল্টো তাঁর চার শতাংশ জমি পাওনা রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
বাবুল মিয়া আরও অভিযোগ করেন, ওই চার শতাংশ জমি ফেরত না দিয়ে তাকে এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় প্রবাসে থাকা মো. শফিকুল ইসলাম তাঁর ‘শফিকুল দেওয়ান’ (Shofikul Dewan) নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বাবুল মিয়াকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। এসব পোস্টের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বাবুল মিয়া বলেন, “আমি কোনো অন্যায় বা বেআইনি দখলের সঙ্গে জড়িত নই। আমার বৈধ জমির সঠিক পরিমাপ ও কাগজপত্রের ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণ করা হোক। একই সঙ্গে আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তারও সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
তিনি জমি সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত, অতিরিক্ত জমি দখলের বিষয়টি নির্ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. বাবুল মিয়া। এ সময় তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রোকসানা আক্তার, ফুলেরা বেগম, আব্দুর রাজ্জাক, মো. বাচ্চু মিয়া, মো. নজিমউদ্দিন, মো. আলতা, মো. ইউসুফ, জগলুসহ স্থানীয় আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবু সাঈদ মুন্সি, মো. শফিকুল ও মো. রফিকুলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন