চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে বোরো ধান ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে মোট ৭০ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৭৭৮ হেক্টরের ধান কাটা সম্পন্ন হলেও বাকি ৬৬ হাজার ১৫২ হেক্টর জমির ধান এখনও মাঠে রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ২১৫ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই সঙ্গে ১২ হাজার ৩৩২ হেক্টর জমিতে আবাদ করা গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এছাড়া সাম্প্রতিক কালবৈশাখীর প্রভাবে অনেক এলাকার পাকা ধান নষ্ট হয়েছে এবং আমের মুকুলও ব্যাপকভাবে ঝরে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক আপ্রু মারমা জানান, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নেওয়া হয়েছে এবং বৃষ্টি থামলে চূড়ান্ত চিত্র জানা যাবে। তিনি বলেন, “বৃষ্টি দ্রুত বন্ধ হলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে আরও ২-৩ দিন টানা বৃষ্টি হলে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।”
অন্যদিকে চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, মিরসরাই, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার নিচু জমি ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢলপ্রবণ এলাকায় পানির স্তর বেশি হওয়ায় পাকা ধানও ডুবে গেছে। একই সঙ্গে সবজি চাষের জমিগুলোও পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় বৃষ্টি দ্রুত বন্ধ না হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কৃষিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, যা সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জামালপুর ট্রিবিউন/ আবু সাঈদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন