জামালপুরে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কর্মশালা
জামালপুর সদর, দেওয়ানগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার মোট ৩০টি ইউনিয়নে বর্তমানে বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।আসমাউল আসিফ, স্টাফ রিপোর্টার:
‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে, চলো যাই গ্রাম আদালতে’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ‘গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
জামালপুর সদর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন, সদর থানার উপ-পরিদর্শক বিজন কুমার বিশ্বাস, তরঙ্গ মহিলা কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শামীমা খান, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো. শফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক বজলুর রহমান, আসমাউল আসিফসহ অন্যান্যরা।
কর্মশালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, গ্রামের মুরুব্বিদের মাধ্যমে বা পঞ্চায়েত প্রথায় যেভাবে বিচার-সালিশ পরিচালিত হতো, তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপই হলো গ্রাম আদালত। এখানে স্বল্প খরচে ও দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ অর্থ ও সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি সহজে প্রতিকার পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে আদালতে যাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে গ্রাম আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে পারলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মাহফুজা রহমান।
তিনি জানান, জামালপুর সদর, দেওয়ানগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার মোট ৩০টি ইউনিয়নে বর্তমানে বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত জেলার ৭টি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নে দেওয়ানি অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে ১ হাজার ২০৬ জন পুরুষ ও ২৭১ জন নারী অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৯৫ জন পুরুষ ও ২৬২ জন নারীর অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে।
এছাড়া ফৌজদারি অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে ১ হাজার ২৮২ জন পুরুষ ও ৩৩২ জন নারী অভিযোগ করেন। যার মধ্যে ১ হাজার ২৫৫ জন পুরুষ ও ৩৩০ জন নারীর অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলো বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেওয়ানি বিষয়ে ১ হাজার ১৯৭টি এবং ফৌজদারি বিষয়ে ১ হাজার ৩২৮টি রায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ সময় দেওয়ানি অভিযোগে ৮ কোটি ৭২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা এবং ফৌজদারি অভিযোগে ২৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।
জামালপুর ট্রিবিউন/ আবু সাঈদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন