প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
কম খরচে ও নিরাপদ পশু পরিবহন: জামালপুর থেকে ঢাকায় ছুটছে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন
কম খরচে ও নিরাপদ পশু পরিবহন: জামালপুর থেকে ঢাকায় ছুটছে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন
প্রকাশঃ
স্টাফ রিপোর্টার:
করোনা পরিস্থিতির সময় কম খরচে ও নিরাপদে পশু পরিবহনের সুবিধা দিতে ২০২১ সাল থেকে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন চালু করে রেলওয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার জামালপুর জেলা থেকে ৩টি বিশেষ ট্রেনের ৭৫টি ওয়াগনে প্রায় ১২০০ গরু নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন। এর মধ্যে দুটি ট্রেন শুক্রবার এবং শেষ ট্রেনটি শনিবার বিকেলে ছাড়বে।
প্রতি বছরের মতো এবারও শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের ইসলামপুর বাজার স্টেশন থেকে ২৫টি ওয়াগনে ৪০০ গরু নিয়ে প্রথম ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্রেনে পশু পরিবহন করলে খরচ কমার পাশাপাশি যানজটের ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হচ্ছে।
গরু ব্যবসায়ী আলী আকবর বলেন,
“আমি প্রতিবছরই গরু নিয়ে যাই। আল্লাহর রহমতে সব গরু বিক্রি হয়ে যায়। এবারও ৮টা গরু নিয়ে যাচ্ছি। জামালপুরের চেয়ে ঢাকায় গরুর দাম ভালো পাওয়া যায়। প্রতি গরুতে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি পাওয়া যায়। তাই কষ্ট করে হলেও ঢাকা নিয়ে যাই।”
খামারি শফিকুল ইসলাম বলেন,
“ট্রাকে গরু নিয়ে গেলে ভাড়া বেশি লাগে, ঝাঁকিও বেশি হয়। দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে, আবার বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাও দিতে হয়। কিন্তু ট্রেনে এসব ঝামেলা নেই। নিরাপত্তাও ভালো।”
গরু ব্যবসায়ী জাবের আহাম্মেদ বলেন,
“এক ট্রাক গরু নিয়ে গেলে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে ট্রেনে ১৬টি গরু নিতে খরচ হয় মাত্র ৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি গরু পরিবহনে খরচ পড়ে প্রায় ৫০০ টাকা। তাই ট্রেনে গরু নেওয়ার এত চাপ।”
তবে অবিক্রিত গরু ফেরত আনার জন্য ঢাকাগামী ট্রেনের পাশাপাশি ফিরতি ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
গরু ব্যবসায়ী সেলিম মণ্ডল বলেন,
“ঢাকায় সব সময় সব গরু বিক্রি হয় না। তখন কম দামে বিক্রি করতে হয়, এতে লোকসান হয়। যদি সরকার ফিরতি ট্রেনের ব্যবস্থা করতো, তাহলে অবিক্রিত গরু আবার ফিরিয়ে আনা যেতো।”
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রতিটি ওয়াগনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। প্রতিটি ওয়াগনে সর্বোচ্চ ১৬টি গরু পরিবহন করা যাচ্ছে।
ইসলামপুর বাজার রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহিন মিয়া বলেন,
“ট্রেনে গরু পরিবহনে খামারি ও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ট্রেনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব ওয়াগন বুক হয়ে গেছে। আরও ট্রেন চালু করা হলে সেগুলোও বুক হয়ে যেতো। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে, যাতে আগামীতে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো যায়।”
জামালপুর ট্রিবিউন/ আবু সাঈদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন