৭নং কম্পপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমিটি গঠন নিয়ে সরগরম এলাকাবাসী
৭নং কম্পপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিগগিরই কমিটি গঠিত হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে বিশেষশাকিল আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কম্পপুর গ্রামে অবস্থিত ৭নং কম্পপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা কার্যকর হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় পর্যায়েও কমিটি গঠনের প্রস্তুতি চলছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১২ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটিতে থাকবেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক-সদস্য সচিব হিসেবে; শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্য থেকে মনোনীত একজন করে শিক্ষানুরাগী নারী ও পুরুষ প্রতিনিধি; বিদ্যালয়ের জমিদাতা বা তাঁর উত্তরাধিকারী; নিকটবর্তী কোনো বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক; বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত একজন প্রতিনিধি; নির্বাচিত অভিভাবক সদস্যবৃন্দ; সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা বা শিক্ষক। কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন সদস্যদের মধ্য থেকেই, যাঁর ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক।
নতুন এই নীতিমালা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ৭নং কম্পপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিগগিরই কমিটি গঠিত হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। তাঁদের প্রত্যাশা, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে এই কমিটি।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শহিদুর রহমান শহীদ বলেন, "শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠিত হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তবে ফ্যাসিবাদী মনোভাবাপন্ন কিংবা দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো ব্যক্তি যেন এই কমিটিতে স্থান না পান, সে বিষয়ে আমরা দাবি জানাচ্ছি।"
স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আক্তারুজ্জামান বলেন, "রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি নিজ গ্রামের বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের স্বার্থে আমি চাই, দলমত নির্বিশেষে যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়েই কমিটি গঠিত হোক এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্ধারিত হোক।"
মো. সাদ্দাম হোসেন রিপন বলেন, "সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অন্যান্য বিদ্যালয়ের মতো আমাদের বিদ্যালয়েও যেন নিরপেক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠিত হয়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।"
বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. শাহিনুর রহমান সাগর বলেন, "এই বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে চাই, যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের হাত ধরে বিদ্যালয়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক, যাতে সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মান আরও উন্নত হয়।"
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুর্শিনা আক্তার বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ীই দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো তাঁদের বিদ্যালয়েও কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, "নির্ধারিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে ভিন্ন কোনো প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠনের সুযোগ নেই।"
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠিত হলে তা ৭নং কম্পপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সার্বিক মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে তা চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে জানা গেছে।
জামালপুর ট্রিবিউন/আবু সাঈদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন