বগুড়া টিটিসি থেকে এনসিপি নেতা বহিষ্কার, নারী প্রশিক্ষণার্থী ও শিক্ষকদের উত্ত্যক্তের অভিযোগ
বগুড়া টিটিসি থেকে এনসিপি নেতা বহিষ্কার, নারী প্রশিক্ষণার্থী ও শিক্ষকদের উত্ত্যক্তের অভিযোগ
বগুড়ার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) থেকে নারী প্রশিক্ষণার্থী ও শিক্ষকদের উত্ত্যক্ত এবং অশালীন আচরণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আলী আজম সাব্বির খানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এসএম ইমদাদুল হকের স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
টিটিসি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার দহিলা গ্রামের বাসিন্দা আলী আজম সাব্বির খান এনসিপির শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সমন্বয়ক সদস্য। তিনি বগুড়া টিটিসিতে তিন মাস মেয়াদি ড্রাইভিং ও আরএসি (রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং) ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন ট্রেডের অন্তত ২০ জন নারী প্রশিক্ষণার্থী ও ৬ জন শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অশালীন প্রস্তাব ও হয়রানি করে আসছিলেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা টিটিসির অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেও অভিযোগ রয়েছে, সাব্বির খান তার আচরণ পরিবর্তন না করে বরং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন।
গত ২৪ মে ছুটির দিনে তাকে অধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে এনে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়। এ সময় তিনি অভিযোগ স্বীকারে অনীহা প্রকাশ করলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তিনি লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন।
টিটিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর রাশেদুল হাসান শাহীন বলেন, “নারী প্রশিক্ষণার্থী ও শিক্ষকদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় তার কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন। প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে আলী আজম সাব্বির খানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জামালপুর ট্রিবিউন/ আবু সাঈদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন