জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি’: শত বছরের লোকজ স্বাদ ও সংস্কৃতি
জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি’: শত বছরের লোকজ স্বাদ ও সংস্কৃতি
জামালপুর জেলার শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি’ এ অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতি ও খাদ্য ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত। আঞ্চলিকভাবে একে অনেকে ‘ম্যান্দা’, ‘মিলানি’ বা ‘পিঠালি’ নামেও ডাকেন।
স্থানীয়দের মতে, মিল্লি শুধু একটি খাবার নয়, এটি জামালপুরের সামাজিক ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রতীক। এর নাম শুনলেই স্বাদের স্মৃতি জাগে বলে দাবি করেন অনেকে।
সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রচলন
স্থানীয়ভাবে মিল্লি সাধারণত প্রতিদিনের খাবার হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। বিশেষ করে মৃত্যুর পর ৪০ দিনের দোয়া মাহফিল, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘বেপার’ বলা হয়, সেখানে এ খাবারের আয়োজন করা হয়। ওই সময় কলাপাতায় বসে গরম ভাতের সঙ্গে মিল্লি পরিবেশন করা হয়।
এছাড়া বিয়ে, আকিকা, খতনা ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে মিল্লি পরিবেশনের প্রচলন রয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টেও এই ঐতিহ্যবাহী খাবার পাওয়া যায়।
মিল্লি তৈরির উপকরণ ও প্রণালি
মিল্লি তৈরির প্রধান উপকরণ হলো গরুর মাংস ও চালের গুঁড়া। এছাড়া খাসি বা মহিষের মাংস দিয়েও এটি রান্না করা যায়।
এতে ব্যবহার করা হয় পেঁয়াজ, রসুন, আদা, জিরা, হলুদ, ধনিয়া, মরিচ, কাঁচা মরিচ, তেল, তেজপাতা, এলাচ, দারুচিনি, লবণ ও আলুসহ বিভিন্ন মসলা।
মাংস মসলা দিয়ে কষিয়ে ধীরে ধীরে রান্না করা হয়। পরে নির্দিষ্ট সময়ে চালের গুঁড়া মিশিয়ে নেড়ে রান্না সম্পন্ন করা হয়, যা খাবারটিকে ঘন ও সুস্বাদু করে তোলে। শেষে বাগাড় মিশিয়ে এর স্বাদ আরও বৃদ্ধি করা হয়।
গরম ভাত বা রুটির সঙ্গে পরিবেশন করলে মিল্লির আসল স্বাদ পাওয়া যায় বলে জানান স্থানীয়রা।
লোকজ ঐতিহ্য
স্থানীয়দের মতে, মিল্লি শুধু একটি খাবার নয়, এটি জামালপুরের গ্রামীণ ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও আতিথেয়তার জীবন্ত প্রতীক।
জামালপুর ট্রিবিউন/ আবু সাঈদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন