জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যমুনার তীব্র ভাঙন: নদীগর্ভে বিলীন ৪০০ মিটার সড়ক, বিচ্ছিন্ন ৫ গ্রামের যোগাযোগ
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় অসময়ে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে নদীর ভাঙনে দেওয়ানগঞ্জ–খোলাবাড়ী সড়কের হুদার মোড় এলাকার অন্তত ৪০০ মিটার অংশ যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে দেওয়ানগঞ্জ সদর থেকে বাহাদুরাবাদ নৌ থানাসহ অন্তত পাঁচটি গ্রামের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া চর ডাকাতিয়া পাড়া ও হাজারি গ্রামের বসতবাড়ি এবং ফসলি জমি প্রতিনিয়ত ভাঙনের মুখে পড়ছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে বাহাদুরাবাদ নৌ থানা, চর মাগুরিহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল মাদ্রাসা, খোলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, যমুনার প্রবল স্রোতে দেওয়ানগঞ্জ–খোলাবাড়ী সড়কের হুদার মোড় এলাকার প্রায় ৪০০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে খোলাবাড়ী, হাজারীপাড়া, চর মাগুরীহাট, হরিচন্ডী ও আজিজলপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ শত শত যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে চিকাজানী ইউনিয়ন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সদর এবং জেলা শহরে যাতায়াত করেন। সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজ সড়কটির এমন পরিণতি হতো না।
মন্নিয়ার চরের বাসিন্দা আ. রউফ, খোলাবাড়ীর ইদ্রিস আলী এবং চর বাহাদুরাবাদের জরিপ উদ্দিন জানান, গত কয়েক বছরে যমুনার ভাঙনে শত শত বসতভিটা, কয়েক হাজার একর ফসলি জমি, বাজার, বিদ্যালয়, মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ বহু স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
তারা আরও জানান, গত বছর বর্ষা মৌসুমে নদীর ভাঙনে দেওয়ানগঞ্জ–খোলাবাড়ী সড়কের মন্ডল বাজার এলাকার একটি অংশ নদীতে চলে যায়। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তড়িঘড়ি করে সিনথেটিক ও জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করে। তবে চলতি শুষ্ক মৌসুমেও ভাঙন অব্যাহত থাকায় এবার হুদার মোড় এলাকার ৪০০ মিটার সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
চর ডাকাতিয়া পাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, “নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। পাশাপাশি আমাদের গ্রামের বসতবাড়ি ও ফসলি জমিও প্রতিনিয়ত ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নতুন সরকারের কাছে দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান বলেন, “ভাঙন রোধে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে এবং অর্থ বরাদ্দ হলে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালপুর ট্রিবিউন/ আবু সাঈদ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন