ঢাকা

No edit

সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকাঃ

No edit

সংবাদ শিরোনাম ::
Header Ads

আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে দেওয়ানগঞ্জে মরিচ খাতে ধস

আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে দেওয়ানগঞ্জে মরিচ খাতে ধস
প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
অ+ অ-


আসমাউল আসিফ, স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি মরিচ চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। তবে চলতি মৌসুমে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় পাকা বা শুকনো মরিচের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদিত মরিচের প্রায় ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং গুণগত মান কমে যাওয়ায় কৃষকদের অর্ধেক দামে মরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে উপজেলার কয়েক হাজার মরিচ চাষি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত আশ্বিন-কার্তিক মাসে মরিচের বীজ বপন করা হয় এবং ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পাকা মরিচ সংগ্রহ করা হয়। মাঝের সময়ে কাঁচা মরিচ বাজারে বিক্রি করা হলেও অধিক লাভের আশায় কৃষকরা শুকনো মরিচ উৎপাদনে বেশি আগ্রহী। প্রতি বিঘা জমিতে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে গড়ে ১০ থেকে ১২ মণ মরিচ উৎপাদিত হয়। ভালো মানের শুকনো মরিচ সাধারণত প্রতি মণ ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এবছর আবহাওয়ার প্রভাবে মরিচের রং ও মান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

কৃষকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু মরিচ সংগ্রহের পর শুকানোর সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। এতে প্রায় ৪০ শতাংশ মরিচের রং ফ্যাকাসে হয়ে যায় এবং বাজারমূল্য কমে যায়। ফলে প্রতি মণ মরিচে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ এলাকার কৃষক শহীদ জামাল বলেন, “মরিচ চাষে খরচ ও পরিশ্রম বেশি হলেও ভালো ফলন হলে লাভ পাওয়া যায়। কিন্তু এবছর শুকানোর সময় বৃষ্টির কারণে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

পোল্যাকান্দি গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, “শেষ সময়ে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে মরিচের মান নষ্ট হয়েছে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আগের বছর লাভ হলেও এবার লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

চর বাহাদুরাবাদ গ্রামের কৃষক আজগর আলী জানান, তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও প্রায় অর্ধেক মরিচের মান নষ্ট হওয়ায় আশানুরূপ লাভ হয়নি। তিনি বলেন, “এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে উঠবো বুঝতে পারছি না। সরকারের সহায়তা প্রয়োজন।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে দেওয়ানগঞ্জে ৪৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাস্তবে ৪৬০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। শুরুতে উৎপাদন ভালো হলেও পাকা মরিচ শুকানোর সময় বৃষ্টির কারণে মান নষ্ট হয়েছে। ফলে বাজারে চাহিদা কমে গেছে এবং কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রণোদনা বরাদ্দ পেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে তা বিতরণ করা হবে।

জামালপুর ট্রিবিউন/ শাকিল আহমেদ 

শিরোনাম...

একটি মন্তব্য করুন