যমুনার পানি বাড়ছে, ইসলামপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত; ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
যমুনার পানি বাড়ছে, ইসলামপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত; ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
প্রকাশঃ
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে আবাদি জমি, বসতঘর ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে উপজেলার সাপধরী, চিনাডুলী ও নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পায়। এতে আমন ধানের বীজতলা, পাট, শাকসবজিসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল পানির নিচে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, যমুনা নদী তীরবর্তী চারটি ইউনিয়নের অন্তত ২৫ হেক্টর জমির পাট, বীজতলা ও সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে।
সাপধরী ইউনিয়নের প্রজাপতি গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম প্রামাণিক বলেন, “আমার তিন বিঘা জমির পাট পানিতে ডুবে গেছে। পানি দীর্ঘদিন থাকলে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”
একই গ্রামের কৃষক রফিক মণ্ডল জানান, “আমার ৪০ শতাংশ জমির সবজি আংশিক তলিয়ে গেছে। পানি আরও বাড়লে পুরো জমিই ডুবে যাবে, এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার কয়েকটি গ্রামীণ সড়কও পানির নিচে চলে গেছে। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক আব্দুল মান্নান জানান, যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানির উচ্চতা ২৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, “আগামী দুই থেকে তিন দিন যমুনার পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে।”
জামালপুর ট্রিবিউন/ আবু সাঈদ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন