জামালপুর সীমান্তে ‘পুশইন’ চেষ্টা ঘিরে উত্তেজনা, শূন্যরেখায় তিনদিন ধরে বৃদ্ধ
জামালপুর সীমান্তে ‘পুশইন’ চেষ্টা ঘিরে উত্তেজনা, শূন্যরেখায় তিনদিন ধরে বৃদ্ধ
প্রকাশঃ
বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় ফিরে যায় ছয়জন, মানবেতর অবস্থায় আটকে একজন বৃদ্ধ
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর–রামরামপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বিরুদ্ধে সাতজনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক প্রবেশ করানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে ছয়জন ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে ফিরে গেলেও, এক বৃদ্ধ এখনো আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (১০ জুন) ভোর রাতে আন্তর্জাতিক ১০৮২ নম্বর সীমান্ত পিলারের পাশে এ ঘটনা ঘটে। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কয়েকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো হয়। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্য ও সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন। এ সময় ছয়জন পালিয়ে ভারতে ফিরে যেতে সক্ষম হলেও, এক বৃদ্ধ শূন্যরেখায় থেকে যান।
স্থানীয়দের দাবি, গত তিনদিন ধরে ওই বৃদ্ধ অনাহারে ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তিনি সীমান্তের যেদিকেই যাওয়ার চেষ্টা করছেন, সেদিক থেকেই বাধার মুখে পড়ছেন। তার এমন অসহায় অবস্থায় এলাকাজুড়ে মানবিক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর বুধবার সকালে বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “বিএসএফ একজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। আমরা তাকে ফেরত পাঠিয়েছি। লোকটি এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। তীব্র রোদ ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে শূন্যরেখায় পড়ে থাকা বৃদ্ধের মানবিক সংকট এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
জামালপুর ট্রিবিউন/ আবু সাঈদ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন