১৮০ দিনের মধ্যে ৫ জেলায় চালু হচ্ছে ই-হেলথ কার্ড
নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের পাইলটিং কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ৩৬টি ইউনিটের ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।![]() |
| ছবি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান |
অনলাইন ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের পাঁচ জেলায় ‘ই-হেলথ কার্ড’ সেবা চালু করা হবে।
বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ই-হেলথ কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার জনগণকে পরীক্ষামূলকভাবে ই-হেলথ কার্ড সেবা প্রদান করা হবে। এই কার্ড ইলেক্ট্রনিক রেফারেল সিস্টেম এবং ইলেক্ট্রনিক পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের পাইলটিং কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ৩৬টি ইউনিটের ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
কৃষক কার্ডের প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমে দেশের ৮ বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ২০ হাজার ৭৪৮ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার-প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৬৬৬টি খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব খালের মোট দৈর্ঘ্য ৯৬৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার।
সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামী বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কার্যক্রম চালুর কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট আটটি খেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
সূত্র: বাসস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন