রুট বদল আর সময়সূচির জটিলতায় ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’, বাড়ছে যাত্রীদের দুর্ভোগ
রুট বদল আর সময়সূচির জটিলতায় ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’, বাড়ছে যাত্রীদের দুর্ভোগজামালপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পর চালু হওয়া আন্তঃনগর ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ এখন যাত্রীদের জন্য আশীর্বাদের বদলে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রুট পরিবর্তন, দীর্ঘ যাত্রাপথ, অনুপযোগী সময়সূচি এবং কম দূরত্বের যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত টিকিটের অভাবে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজারো যাত্রী।
২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-সরিষাবাড়ী-জামালপুর রুটে ট্রেনটির যাত্রা শুরু হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানিকৃত আধুনিক পিটি ইনকা কোচ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্নিগ্ধা চেয়ার, বায়ো-টয়লেট ও আধুনিক সুবিধার কারণে উদ্বোধনের পর থেকেই ট্রেনটি যাত্রীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
তবে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল যমুনা সেতু পূর্ব স্টেশনের সংস্কার কাজের কারণে ট্রেনটির রুট পরিবর্তন করে ময়মনসিংহ হয়ে ভূঞাপুর পর্যন্ত পরিচালনা করা হয়। এরপর থেকেই যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়তে থাকে।
নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, বর্তমানে ট্রেনটি ঢাকা থেকে সকাল ১০টায় ছেড়ে বিভিন্ন স্টেশনে থামতে থামতে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গন্তব্যে পৌঁছায়। ফলে পুরো একটি কর্মদিবস নষ্ট হয়ে যায়। আবার ফেরার পথে গভীর রাতে ঢাকায় পৌঁছাতে হওয়ায় নারী, শিশু, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
নিয়মিত যাত্রী শাকিল বলেন, “সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে বিকেলে জামালপুর পৌঁছাতে হয়। আবার রাতে ঢাকায় ফিরতে ফিরতে প্রায় মধ্যরাত হয়ে যায়। এতে সময়, অর্থ ও নিরাপত্তা—সব দিক থেকেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
এদিকে কম দূরত্বের স্টেশনগুলোর জন্য পর্যাপ্ত টিকিট বরাদ্দ না থাকায় অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
যাত্রী আতিফ বলেন, “সরিষাবাড়ী বা কাছাকাছি স্টেশনের টিকিট পাওয়া যায় না। আসন সংকটের কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিনা টিকিটে যাতায়াত করছেন। এতে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।”
টাঙ্গাইল অঞ্চলের সঙ্গে জামালপুরের সরাসরি আন্তঃনগর রেল যোগাযোগও রুট পরিবর্তনের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ওই অঞ্চলে যাতায়াতে বাড়তি দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
যাত্রী রায়হান বলেন, “টাঙ্গাইলে যাওয়ার জন্য আগে জামালপুর এক্সপ্রেসই ছিল সবচেয়ে সহজ মাধ্যম। রুট পরিবর্তনের পর সেই সুবিধা আর নেই।”
ট্রেনটির পূর্বের রুট পুনর্বহাল, যাত্রীবান্ধব সময়সূচি নির্ধারণ এবং কম দূরত্বের যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত আসন বরাদ্দের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন জামালপুর ও সরিষাবাড়ীর বাসিন্দারা।
সরিষাবাড়ী নাগরিক সমাজের সভাপতি মো. ইউসূফ আলী বলেন, “ট্রেনটি পূর্বের রুটে ফিরিয়ে আনলে যাত্রীদের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে টাঙ্গাইল ও জামালপুর অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও আগের মতো সচল হবে।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এ বি এম কামরুজ্জামান বলেন, “রুট ও সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে। জনস্বার্থ বিবেচনা করে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন